|

ভালো ভূত মন্দ ভূত

মোস্তফা কামাল

গ্রামের নাম আন্ধার মানিক। গ্রামটি যেন আঁধারে ঢাকা। গ্রামের অধিকাংশই বিশালাকৃতির বাগান। চাড়ির চারপাশেও গাছপালায় ভর্তি। সন্ধ্যা হলেও আঁধার নেমে আসে গ্রামে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় ভূত-প্রেতের কর্মযজ্ঞ। এমন সব কর্মকাণ্ড তারা শুরু করে; যেন গ্রামটিই তাদের স্বর্গরাজ্য। রবিউলদের বাড়িও গ্রামের মধ্যেই। সন্ধ্যা হলে সবাই যে যার মতো ঘরে চলে যায়। কাজ থাকলেও কেউ বাইরে বের হয় না। বের হলেই ভূতের উৎপাত শুরু হয়। এই উৎপাত শুধু রবিউলদের বাড়িতেই নয়, পুরো গ্রামজুড়েই। ভূতের উৎপাতে টিকতে না পেরে কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে। আর সেখানে আস্তানা গেড়েছে ভূতেরা। রবিউল খুব ভালো করেই জানে, সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়া মানে ভূতের কবলে পড়া! তারপরও সে বাইরে বের হয়েছে। আসলে সে বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছে। পড়তে বসা নিয়ে তাকে তার মা খুব করে বকেছিল। তখন সে তার মা’র সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। তার মা তখন তাকে লাঠি নিয়ে তাড়া করলে সে দৌড়ে বাইরে চলে যায়। অন্ধকারে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে আছে রবিউল। এর কিছুক্ষণ পর তার সামনে এসে দাঁড়ায় তার বন্ধু রাকিব। সে রাকিবের সঙ্গে গল্প শুরু করে। রাকিবও নানা গল্পে মাতিয়ে রাখে ওকে। কী একটা গল্প শুনে রবিউল হাসতে শুরু করে। রাকিবও হাসে। তারা দুজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়। এই দৃশ্য দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে কৃষ্ণকান্ত। কৃষ্ণকান্ত কিন্তু মানুষ নয়। সে ভূত। তাকে এই গ্রামে পাঠানো হয়েছে ভালো মানুষকে বিপথে নেয়ার জন্য। কিন্তু কৃষ্ণকান্ত বোকা কিসিমের ভূত। তাকে ভালো ভূতও বলা যেতে পারে। সে মানুষের কিছু কিছু খারাপ কাজ একদম দেখতে পারে না। যেমন, কেউ মায়ের সঙ্গে বেয়াদবি করলে কৃষ্ণকান্ত তাকে শায়েস্তা করতে একটুও সময় নেয় না। তার কথা, আমরা ভূত হয়েও মায়ের সঙ্গে কোনো রকম বেয়াদবি করি না। মানুষ কেন করবে? তাহলে তাকে মানুষ বলা যাবে না। তাকে অমানুষ বলতে হবে। কৃষ্ণকান্ত দেখেছে, রবিউল কীভাবে তার মায়ের সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর থেকে সে তার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। রবিউলের হাসি সে সহ্যই করতে পারে না। সে দেখছে আর দাঁত খিটমিট করছে। কৃষ্ণকান্ত মনে মনে ভাবে, ওর গালে যদি কষিয়ে একটা চড় মারতে পারতাম! তাহলে ও বুঝত, কত ধানে কত চাল! সোনার চান, ঘুঘু দেখেছ, ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি! রাকিবটা কেন ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে? ও আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই বাসায় যাবে। তখন রবিউল যাবে কোথায়? একদম টুটি চেপে ধরব না! কৃষ্ণকান্ত তক্কে তক্কে আছে। রবিউলকে একা পেলেই সে তাকে ধরবে। কিন্তু রাকিবের কারণে ধরার সুযোগ পাচ্ছে না। রাকিব এক মুহূর্তের জন্য একটু অন্য দিকে তাকিয়েছিল। ঠিক সেই সময়টাই বেছে নিয়ে কৃষ্ণকান্ত। সে হঠাৎ রবিউলের গালে কষিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিল। আচমকা চড় খেয়ে তাজ্জব বনে গেলো রবিউল। সে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চারদিকে তাকায়। কেউ নেই। সে একদম একা। রবিউলকে চড় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বন্ধু রাকিব দৌড়ে পালিয়েছে। রবিউল মনে মনে বলে, কই, কাউকেই তো দেখছি না! কে চড় দিল! কি কারণে চড় দিল! আজব ব্যাপার তো! এ সময় অজ্ঞাত স্থান থেকে ভরাট কণ্ঠে আওয়াজ ভেসে এলো। এটা তোর শাস্তি! বুঝলি কিছু? শব্দগুলো কেমন যেন ভৌতিক মনে হচ্ছিল। ভয়ে রবিউলের বুকটা কেঁপে উঠল। সে কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। সে কাঁপতে কাঁপতে বলল, আপনি কে! আমি তোর যম! জি! এই ঢং করবি না। তুই আমার কথা শুনতে পাসনি? এবার কিন্তু বাঁ গালে চড় দিব। এমন চড় দেব যাতে পর্দা ফেটে যায়! ফাজিল কোথাকার! রবিউল বুঝে গেলো, এটা ভূত ছাড়া আর কেউ নয়। আমাকে একা পেয়ে ভূত আমার ঘাড় মটকাতে পারে! ভূতের কবল থেকে পালিয়ে বাঁচতে হবে। তারপর রবিউল দৌড় শুরু করল। সে কী দৌড়! রবিউল দৌড়ায় আর মনে মনে ভাবে, ভূত আর তার নাগাল পাবে না। এ সময় তার সামনে এসে দাঁড়াল আরেকটা ভূত। এই ভূতটার নাম নিশিকান্ত। কৃষ্ণকান্তের বড় ভাই। নিশিকান্ত খুবই চতুর এবং বিপজ্জনক একটা ভূত। সে এমন সব কাজ করে যা দেখলে ভূতও অবাক হয়ে যায়। যাহোক, নিশিকান্তের সামনে পড়ে রবিউল থামল। সে কথা বলতে পারছে না। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ছাড়ছে। নিশিকান্ত রবিউলের কাঁধে হাত রাখল। তারপর বলল, কি হয়েছে? এভাবে হাঁপাচ্ছ কেন? রবিউল হাঁপাতে হাঁপাতেই বলল, আর বলবেন না। কে যেন আমাকে চড় মারছে। উহ! গালটা এখনো ব্যথা করছে। কেন চড় মারছে? জানি না। তুমি জিজ্ঞাসা করবা না? কারে জিজ্ঞাসা করব? কাউকেই তো দেখি না! দূর বোকা! কাউকে দেখি না মানে কি? সত্যি বলছি। কাউকে দেখি না। কিন্তু কার যেন কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি। কার কণ্ঠস্বর? ঠিক বুঝতে পারলাম না। কি বলল তোমাকে? বলল, আমি তোর যম! হুম, বুঝছি। কি বুঝছেন? এটা ভূত ছাড়া আর কেউ না! ওরে বাবা ভূত! বলেই রবিউল আবার দৌড় দিতে লাগল। এ সময় নিশিকান্ত রবিউলের হাত ধরে বলল, কোথায় যাও? ঘরে যাই। ঘরে গেলে তোমার আজ খবর আছে! কেন? তোমার মা লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাই নাকি? হুম। এখন ঘরে যাওয়ার দরকার নেই। চল, ওঠানে দাঁড়িয়ে গল্প করি। আমার যে ভীষণ ভয় লাগছে! কিসের ভয়? আমি আছি না? আপনি কে? আমাকে চেন না? আমি তোমার ছোট মামা। ও! ছোটমামা? হুম। আগে বলবে না? আমি তো ভয়ে অস্থির! আমি অবশ্য বুঝতে পারছিলাম, তুমি ভয় পাচ্ছ। কিন্তু তুমি যে এতো ভীতু তা বুঝিনি। মামা, তুমি তো জানোই, আমাদের গ্রামটাই একটা ভূতগ্রাম! রাত নামলেই শুরু হয় ভূতের বাড়াবাড়ি। কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না। মহা যন্ত্রণায় আছি মামা। রবিউলের ছোটমামার নাম জাকির হোসেন। ভূত নিশিকান্ত জাকির হোসেনের বেশ ধরে এসেছে। তার উদ্দেশ্য খুব একটা ভালো নয়। সে তাকে কুমন্ত্রণা দিতে ওর কাছে এসেছে। সে কিছুক্ষণ আগে কৃষ্ণকান্তকে শাসিয়ে এসেছে। কারণ, কৃষ্ণকান্ত কুমন্ত্রণা না দিয়ে উল্টো ভালো কাজের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে। তার কথা, ভূতের চেয়ে মানুষ বেশি খারাপ। মানুষের খারাপ কাজ দেখে তার ভেতরে অনুশোচনা হচ্ছে। মানুষ এতো খারাপ হবে তা তার ধারনার মধ্যে ছিল না! কৃষ্ণকান্তের কথা শুনে নিশিকান্ত হাসবে না কাঁদবে তা বুঝতে পারছিল না। সে শুধু বলল, তুই এতো বোকা কেন কৃষ্ণকান্ত। মানুষ যত খারাপ হবে তত আমাদের জন্য ভালো। আমরা তো এটাই চাই। এটাই তো আমাদের ক্রেডিট! তুমি যদি মানুষকে কুমন্ত্রণা দিতে না পারো তাহলে তুমি ভূতরাজ্যেই চলে যাও। দুনিয়াতে তোমার থাকার কোনো দরকার নেই। নিশিকান্তের কথা শুনে কৃষ্ণকান্ত মন খারাপ করে বসে রইল। আর নিশিকান্ত ছুটে এলো রবিউলের কাছে। রবিউলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বুঝতে পারল, সে ভূতের ভয়ে একেবারে কাবু। ওকে আরেকটু কাবু করতে পারলে ওকে যা বলা হবে তাই সে করবে। নিশিকান্ত রবিউলকে বলল, শোন, আমি না এলে আজ ওই ভূতটা তোমার ঘাড় মটকাতো। তোমাকে চিবিয়ে খেত। বুঝতে পারছ? সত্যি মামা! আপনি না হলে আজ আমার অবস্থা খুবই খারাপ হতো। তাইলে বোঝ। তোমার মামা তোমার ভালো চায় না মন্দ চায়! অবশ্যই ভালো চায়। আমার কথা মন দিয়ে শোন। তুমি তোমার মা’র কথা শুনতে যেও না। পড়ালেখা করে কি করবে? এখন আর চাকরি বাকরি হয় না। পড়ালেখা করে বেকার বসে থাকার চেয়ে না করা ভালো না! ঠিক বলেছ মামা। পড়ালেখা বড় কষ্টের কাজ। কিন্তু মামা, পড়ালেখা না করলে তো মা মারবেন। তখন কে ঠেকাবে? তুমি ঠেকাতে পারবে? পারব। অবশ্যই পারব। আমার মনে হয় না মামা। মা যে রাগী মানুষ! ওসব নিয়ে তুমি চিন্তা কর না। আমি বললে তোমার মা কিছু বলবে না। তাহলে একবার পরীক্ষা করে দেখি? কি পরীক্ষা করবে? এই ধরো, আমি এখন ঘরে গেলে মা যদি না মারেন তাইলে বুঝব, তোমার কথা মা শুনেছেন। ঠিক আছে। তাহলে পরীক্ষা হয়ে যাক! তুমি একটু দাঁড়াও। আমি তোমার মার সঙ্গে কথা বলে আসি! ঠিক আছে যাও। নিশিকান্ত রবিউলের ছোটমামার বেশ ধরে ঘরের ভেতরে গেলো। তাকে দেখে রবিউলের মা তো অবাক! এতো রাতে শাহজাহান আলী কোথা থেকে এলো! তিনি মনে মনে ভাবেন, শাহজাহানের বেশ ধরে ভূতটুত আসেনি তো! নিশিকান্ত রবিউলের মা রওশন আরার দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারল যে, সে তাকে সন্দেহ করছে। তার মনের সন্দেহ দূর করার জন্য নিশিকান্ত বলল, কি ব্যাপার বুবু, তুমি ওমন করে তাকিয়ে আছ কেন? এতো রাতে কোথা থেকে আসছি সেটা ভাবছ তো! তোমার ছেলের জন্য আসতে হয়েছে। তোমার ছেলে ভয়াবহ বিপদে পড়েছিল। একটা ভূত তাকে নদীর পাড়ে নিয়ে বসিয়ে রেখেছিল। কি বললি? হ্যা বুবু! তুমি কেন ওর ওপর শুধু শুধু রাগ করেছ! আমি সামনে না পড়লেই তো ওকে নদীতে ফেলে দিত! ও আল্লাহ! রবিউল কই এখন! ও তো তোমার ভয়ে ঘরেই আসতে চায় না। তাই আমি ওকে বললাম, তুমি বাইরে দাঁড়াও। আমি আগে বুবুকে বুঝিয়ে বলি! আরে! রবিউলকে বাইরে রেখে এসেছ কেন! কি করব? ও তো তোমার ভয়ে ঘরে ঢুকতে চায় না। আমি কি করব? শোন বুবু, তুমি আর কোনো কারণে ওর ওপর রাগ কর না। আমি রাগ করি কি এমনি এমনি! পড়ালেখার নাম নেই। সারাক্ষণ কেবল দুষ্টামি। এই বয়সে পোলাপান একটু আধটু দুষ্টামি করেই। সে জন্য তুমি ওকে বাড়ির বাইরে রাখবে? বাড়ির বাইরে রাখলাম কোথায়? ওকে মারব বলে লাঠি নিয়েছি আর ওমনি ও বাইরে দৌড় দিল! ওকে ডাকো না! নিশিকান্ত দ্রুত দরজার সামনে গিয়ে রবিউলকে ডাকল। কই রবিউল! আসো আসো! কোথায় তোমার মা তোমার জন্য চিন্তা করছে! আর তুমি বলছ, তোমাকে সে মারবে! রবিউল ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওর মা রওশন আরা ওকে বুকে টেনে নিল। তারপর বলল, আর কখনো তোকে আমি রাগ করব না বাবা! আজ তোর যদি কোনো বিপদ হতো! এই! আমার রাগ কি বেশিক্ষণ থাকে! তুই কিছুক্ষণ পর ঘরে চলে এলেই তো হতো! আমি কিছু বলতাম! ঠিক আছে বুবু। তুমি আর ওকে কিছু বল না। আমি তাহলে গেলাম! কি! এতো রাতে তুই কোথায় যাবি! বাড়িতে যেতে হবে। আমার জরুরি একটা কাজ আছে। কাল সকালে বরিশাল যেতে হবে। খুব জরুরি কাজ। আচ্ছা তাহলে যা। নিশিকান্ত বের হয়ে গেলো। রওশন আরা দরজার খিল লাগিয়ে ঘরের ভেতরে গেলেন। রবিউলকে ভাত খেতে দিলেন। নিজেও খাওয়া শুরু করলেন। এ সময় বিকট শব্দে টিনের চালের ওপর কিছু একটা পড়ল। এতো জোরে শব্দ হলো যে মা ছেলের কান ফেটে যাওয়ার অবস্থা! ভয় আর আতঙ্কে হিতাহিত জ্ঞান ছিল না তাদের। রবিউল স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও কিছুটা পথ যাওয়ার পর অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করে। এ সময় কৃষ্ণকান্ত রওশন আরার বেশ ধরে রবিউলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তাকে দেখে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকায় রবিউল। মা, তুমি এখানে! হুম। তুমি ওই দিকে কোথায় যাচ্ছো? স্কুলে! তোমার স্কুল তো এদিকে না। তাহলে কোন দিকে? তুমি সব সময় স্কুলে যাও না? হুম। কোন রাস্তা দিয়ে যাও? রবিউল স্থির হয়ে দাঁড়ায়। তারপর ভালো করে রাস্তার দিকে তাকায়। সে যে উল্টো দিকে যাচ্ছিল তা বুঝতে পারে। তারপর সে তার মাকে বলে, সরি মা। ভুল হয়ে গেছে। আমার সঙ্গে যে আমার বন্ধুরা ছিল; ওরা কোথায়? তোমার সঙ্গে তোমার কোনো বন্ধু ছিল না। তোমার বন্ধুদের বেশ ধরে কয়েকটা ভূত তোমার সঙ্গে ছিল। কী! হুম। ওরা তোমাকে মিসগাইড করছিল। তুমি জানলে কি করে মা? আমি তো নিজের চোখেই দেখলাম। ওরা তোমার সঙ্গে গল্প করতে করতে যাচ্ছিল। আমাকে দেখে বাতাসে মিলিয়ে গেলো! তাই নাকি? আমি এতোক্ষণ ভূতের সঙ্গে ছিলাম! ও মাই গড! যাও, এবার স্কুলে যাও। এই যে, এই রাস্তা দিয়ে সোজা চলে যাও। অন্য কোথাও যাবে না। ঠিক আছে। রবিউল মাথা নেড়ে সায় দিল। তারপর সে স্কুলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎ দেখে, রওশন আরা নেই। তিনি বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে গেলেন। রবিউল বিস্ময়ভরা কণ্ঠে শুধু বলে, এটাও কি একটা ভূত!

Facebook comment Here